সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে গত বছরের একই মাসের তুলনায় বাংলাদেশে সার্বিক রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। আলোচিত মাসে সার্বিক রপ্তানি আয় যে হারে কমেছে, তার চেয়েও বেশি হারে কমেছে পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানি আয়।
পোশাক রপ্তানি
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি খাতে ৮.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বেড়েই চলেছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে। এ সময়ের মধ্যে পোশাক রপ্তানিতে ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার ইউরোপ। এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাসে ইউরোপে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট সাত হাজার ৭৭৭ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এক শতাংশের কিছু কম। আগের বছর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর ১০ মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল সাত হাজার ৭৩৩ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের।
মার্কিন মুল্লুকে গত এক দশকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। এই চিত্র দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড গার্মেন্টসের (ওটেক্সার) এক প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, অষ্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য একটি প্রতিশ্রুতিশীল বাজার।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার কারণে পোশাক রপ্তানিকারকদের সাত দিনের বন্দর ডেমারেজ চার্জ মওকুফ (পণ্য খালাসের বিলম্বের কারণে চার্জ) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, কানাডা ও নতুন বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়লেও কমেছে যুক্তরাষ্ট্রে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৪৪৯ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।জানা গেছে, আগের বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এটি ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ফেব্রুয়ারিতে এত তৈরি পোশাক রপ্তানি হলো।